বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন
কালারমারছড়া ইউনিয়নের কালীগঞ্জ মৌজার এম. আর. আর খতিয়ান নং—১০৮, বি.এস খতিয়ান নং—১১৩ এর বিরুধীয় জমি। ইনসেটে অভিযুক্ত আরাফাতুল ইসলাম। নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নে বিরুধীয় জায়গায় আদালতের ১৪৪ ধারা অমান্য করে লবণ জমি দখলে রেখে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন গুরতর অভিযোগ করেছেন মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর ছিদ্দিকীর পরিবার দক্ষিণ ঝাপুয়ার বাসিন্দা মৃত আবু ছৈয়দের পুত্র আরাফাতুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
সূত্র জানান, কালারমারছড়া ইউনিয়নের কালীগঞ্জ মৌজার এম. আর. আর খতিয়ান নং—১০৮, বি.এস খতিয়ান নং—১১৩ এর ১.৫০ একর জমি দক্ষিণ ঝাপুয়ার বাসিন্দা মৃত আবু ছৈয়দের পুত্র আরাফাতুল ইসলাম জোর পূর্বক দখল করে ভোগ করতে দিচ্ছেনা বলে প্রতিকার চেয়ে মহেশখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গত বছরের ২০ ডিসেম্বর। অভিযোগের বিষয়ে বেশ কয়েকবার সালিশী বৈঠক হয় মহেশখালী থানায়।
অভিযোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা পুত্র সরওয়ার কায়ছার জানান, মহেশখালী থানায় উভয়পক্ষের সালিশকার নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে প্রমানিত হয়েছে আগে থেকেই খরিদাসূত্রে মালিকানায় জায়গা ভোগ দখলে আছে। এবং দালিলিকভাবে তিনি বৈধ এবং পজেশনও সঠিকভাবে আছে। চূড়ান্ত বৈঠকে ডাকলে জোর দেখিয়ে আরাফাত বৈঠকে আসেনা। বরং বিভিন্ন রকম ভয় ভীতি দেখায়। কারণ বিরুধীয় জমির অবস্থান তার বাড়ির পাশে। এক পর্যায়ে ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে অবগত থাকার পরও সে গায়ের জোর দেখিয়ে মাঠে কাজ করছে এবং গত ২৪ জানুয়ারি আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মাঠের লবণও বিক্রি করে দিয়েছে। তিনি আরো জানান, সে প্রচলিত আইনকেও তোয়াক্কা করছেনা। যার কারণে হুমকির মধ্যে রয়েছি আমিসহ আমার পরিবার।
অন্যদিকে বিবাদী আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ক্রয় সূত্রে ওই জায়গায় তিনি ভোগ দখলে আছেন আগে থেকেই। তার মালিকানা সঠিক। তার দাবি থানার বৈঠকে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। চূড়ান্ত বৈঠকে না আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। তার থেকে জানতে চাওয়া হয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের ১৪৪ ধারা অমান্য করে বিরুধীয় লবণ মাঠে কাজ করা এবং লবণ বিক্রি করা আইনত অপরাধ কিনা প্রশ্নের জবাবে জানান, এরকম আরো অনেক ১৪৪ ধারা দিয়েছে, মেয়াদ থাকে মাস দুয়েক।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মহেশখালী থানার এসআই শাহাদত হোসেন জিলানী বলেন, ১৪৪ ধারা জারির নোটিশ উভয়পক্ষকে দেয়া হয়েছে। ১৪৪ ধারা অমান্য হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য বিরুধীয় জায়গার বিষয়ে এম.আর মামলা ৩২৯/২২ ইং আবেদনের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কক্সবাজার মো. আবু সুফিয়ান চলতি মাসের ৯ জানুয়ারি এক আদেশে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
এর আগেও কয়েকবার ১৪৪ ধারা অমান্য করে বেআইনীভাবে দখলে রেখেছে আরাফাতুল ইসলাম। যার ফলে এবারও রীতিমত আদালতের আইনকে তোয়াক্কা করছেন না তিনি। যার ফলে উক্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা।
ভয়েস/জেইউ।